ভারতের তামিলনাড়ুতে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতির রাজনৈতিক সমাবেশে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জন হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতের মধ্যে ১০ জন শিশু ও ১৭ জন নারী রয়েছেন।
দেশটির এনডিটিভি ডটকম জানায়, পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে। আহতদের তামিলনাড়ু কারুর মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার রাতের ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে বিজয় থালাপতি তার বক্তৃতা সংক্ষিপ্ত করেন এবং আহতদের সহায়তার জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) সমর্থকরা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সমাবেশস্থলে অপেক্ষা করছিলেন। বিজয় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ভিড়। এ সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কারুর জেলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ডেভিডসন দেবাসিরভাথাম জানিয়েছেন, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে আরও অনেকে গুরুতর আহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিহতদের বেশিরভাগ বিজয়ের রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম সুব্রাহ্মনিয়ান সমাবেশস্থলে পৌঁছান। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন জেলা সচিবকে ঘটনাস্থল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে স্টালিন লেখেন, ‘কারুর থেকে আসা খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হাসপাতালে ভর্তি আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি।’
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, অতিরিক্ত ভিড়ে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজয় হঠাৎ বক্তৃতা শেষ করেন। দলীয় কর্মীরা প্রচারণা বাস থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের দিকে পানির বোতল ছুড়ে দেন সহায়তার উদ্দেশে।
ভিড়ের কারণে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে ব্যাপক বেগ পেতে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সমাবেশে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। চেন্নাইয়ের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ডিএমকে বিজয়ের দলের অবহেলাকে দায়ী করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর টিভিকে পক্ষ থেকে কর্মী-সমর্থকদের জন্য কঠোর আচরণবিধি জারি করা হয়েছিল। তাতে বলা হয়, বিজয়ের সমর্থকরা যেন গাড়িবহর অনুসরণ বা প্রকাশ্যে অভ্যর্থনা না জানান। গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ, শারীরিকভাবে অক্ষম ও অসুস্থদের অনলাইনে অনুষ্ঠান দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।


