চিরকুট লিখে ২৩ দিনের শিশুকে রেখে পালালেন মা, অতঃপর…

চিরকুট লিখে ২৩ দিনের শিশুকে রেখে পালালেন মা, অতঃপর…
মিষ্টি আক্তারের কোলে রেখে যাওয়া শিশু | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

একটি চিরকুট লিখে ২৩ দিনের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। পরে পুলিশ চিরকুটে লেখা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান পেয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক নারী তার শিশুটিকে একটি চিরকুটসহ হাসপাতালের বহির্বিভাগে অপেক্ষমাণ এক গৃহবধূর কোলে রেখে চলে যান। দীর্ঘ সময় পার হলেও ওই নারী ফিরে না আসায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য তৈরি হয় এবং শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

যার কোলে শিশুটিকে রেখে যাওয়া হয়েছিল, তিনি মিষ্টি আক্তার (২৫)। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর গ্রামের সাগর হোসেনের স্ত্রী।

মিষ্টি আক্তার জানান, জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন।

চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষারত অবস্থায় এক অপরিচিত নারী বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে কিছু সময়ের জন্য শিশুটিকে কোলে দিতে অনুরোধ করেন। মানবিক বিবেচনায় তিনি শিশুটিকে কোলে নেন।

আরও পড়ুন

তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই নারী আর ফিরে না আসায় স্বামী-স্ত্রী মিলে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

এক পর্যায়ে শিশুটির গায়ে জড়ানো কাপড়ের ভেতরে একটি সাদা কাগজে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে লেখা ছিল–‘আপনি বাচ্চাটিকে হেফাজত রাখবেন। বাচ্চাটির জন্ম ১ জানুয়ারি।’

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মিষ্টি আক্তার শিশুটিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসানের কাছে যান এবং পুরো ঘটনা জানান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরদী থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমান অনেকে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন–এভাবে একজন মা কীভাবে নিজের সন্তানকে ফেলে যেতে পারেন।

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আফজাল হোসেন জানান, চিরকুটে থাকা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। নম্বরটি আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তির বলে জানা যায়। তাকে ফোন করলে তিনি হাসপাতালে এসে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিশুটিকে রেখে যাওয়া নারীকে শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, ওই নারী দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের ইমারুল ইসলামের স্ত্রী মুক্তা খাতুন। গত ২৭ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কন্যাসন্তান জন্ম হয়। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে তুবা খাতুন। তবে কী কারণে তিনি এভাবে চিরকুট লিখে অপরিচিত নারীর কোলে শিশুটিকে রেখে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বলেন, ‘ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পুলিশকে অবহিত করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে ওই নারীকে শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।’

সবশেষে পুলিশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার বিকালে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad