চট্টগ্রামে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজন ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য ও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে হালিশহর ঈদগাহ এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নগরের কদমতলী ও অলঙ্কার মোড়ে সড়ক অবরোধ করলে ঘণ্টাখানেকের জন্য চট্টগ্রামের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম আন্তজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে ৩ হাজার ৫৬১ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এত বিপুলসংখ্যক ভোটারের জন্য সীমিত পরিসরের একটি কেন্দ্র, একটি প্রবেশপথ এবং টোকেন ও ব্যালট বিতরণে ধীরগতির কারণে শুরু থেকেই ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
ভোটারদের অভিযোগ, ভোট দিতে তাদের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এনিয়ে বিকালে উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিককে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ব্যালট সংকট ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনাকারীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে হালিশহর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীনসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। তারা বর্তমানে দামপাড়া পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
চট্টগ্রাম আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন জানান, ইটপাটকেলের আঘাতে তাদের পর্যবেক্ষক দলেরও বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় হুড়োহুড়িতে আহত হন কয়েকজন শ্রমিক।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কদমতলী ও অলঙ্কার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।


