রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়/ হলে নিম্নমানের খাবার, বাইরে খেয়ে বাড়ছে খরচ

হলে নিম্নমানের খাবার, বাইরে খেয়ে বাড়ছে খরচ
ছবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে কম দামে খাবার পাওয়া গেলেও তা পছন্দ নয় আবাসিক শিক্ষার্থী ফারিহা সাঈদ নিশার। ভালো খাবারের খোঁজে তাকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়।

খাবারের দোকানে যাওয়া, পরিবেশনের জন্য অপেক্ষা করা ও খাওয়াদাওয়ার সময় গল্প করতে করতে প্রতিবার অন্তত এক ঘণ্টা চলে যায়।

নিশা টাইমসকে বলেন, ‘প্রতিদিন এভাবে আমার তিন থেকে চার ঘণ্টা চলে যায়। রিকশাভাড়াও দিতে হয়। বাইরে একবেলা খেতে ১০০ টাকার বেশি খরচ হয়। এতে আর্থিক চাপ বাড়ে। পাশাপাশি সময় নষ্ট হওয়ায় পড়াশোনাও ব্যাহত হয়।’

আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম হাসিবও এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বাইরে খাবার খেতে যাওয়ার পেছনে যে সময় ব্যয় হয়, তা পড়াশোনায় কাজে লাগানো যেত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিংয়ে মাছ বা মুরগির মাংস ও সবজি দিয়ে দুপুরের খাবারের দাম ৩০ টাকা। একই ধরনের রাতের খাবারের দাম ২৫ টাকা। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানেও সকালের নাশতার কোনো ব্যবস্থা নেই।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার মধ্যে এত কম খরচে মানসম্মত খাবার পরিবেশন কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাইনিংয়ের কর্মীরা।

শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে খাবারে ভর্তুকির দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো এ ব্যবস্থা চালু করেনি।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন বলেন, ‘খাবারের মান দেখলেই বোঝা যায়, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কতটা গুরুত্ব দেয়।’

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিলাসবহুল খাবার চাইছেন না। তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী মানসম্মত খাবার চান।’

আরও পড়ুন

হাবিবুর রহমান হলের ডাইনিং পরিচালনাকারী মোহাম্মদ জামাল বলেন, ‘প্রশাসন ভর্তুকি দিলে আমরা আরও ভালো মানের খাবার পরিবেশন করতে পারব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আবদুল আলীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ পেতে চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘ইউজিসির সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। খাবারে ভর্তুকির জন্য অর্থ বরাদ্দ পেতে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার না পেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তাদের শিক্ষাকার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ক্যানটিনগুলোতেও খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ক্যাম্পাসের খাবারের দোকান কিংবা বাইরের রেস্তোরাঁয় খেতে যান।

একাডেমিক ভবনগুলোর আশপাশের খাবারের দোকানগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে পরিদর্শন করলেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেতে বিনোদপুর ও স্টেশন বাজারে যান। এতে যাতায়াতের সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ে। পরীক্ষার সময় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান টাইমসকে বলেন, ‘একাডেমিক ভবনের আশপাশকে বাজারে পরিণত হতে দেওয়া যায় না। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করতে ক্যানটিন ও ফুড কোর্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

রাকসু নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ইশতেহারের দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি ছিল ‘মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা’।

ধারণা করা হয়, এই প্রতিশ্রুতি প্যানেলটির নির্বাচনী জয়ে ভূমিকা রেখেছিল। তবে এক বছরের মেয়াদে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি রাকসু।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের খাবারের দোকান ও হলের ডাইনিংয়ে মাঝেমধ্যে পরিদর্শন চালানো ছাড়া কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি ছাত্র সংসদ।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘খাবারের মান আগের মতোই আছে। কোনো পরিবর্তন দেখিনি।’

তবে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেন, হলের ডাইনিংয়ের খাবারে ভর্তুকি দিতে রাকসুর তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষমতা রাকসুর নেই।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad