সিলেটের গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ১ নম্বর কূপে নতুন করে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
ওয়ার্কওভার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর কূপটি থেকে দৈনিক ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মাত্র চার মাসের প্রচেষ্টা শেষে সিলেট গ্যাস ফিল্ড এই সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ওয়ার্কওভার শেষে কূপে নতুন মজুদ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানী লিমিটেডের (বাপেক্স) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তর পাওয়া যায়। তাদের ধারণা, কূপটিতে প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকতে পারে। কূপে আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, সব কাজ শেষ করে এক-দুই দিনের মধ্যেই সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো তথ্য জানাবেন। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই গ্যাসটি জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
১৯৮৩ সালে কৈলাশটিলা-১ কূপ থেকে প্রথম গ্যাস পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন উৎপাদনের পর ২০১৯ সালে কূপটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এবার ওয়ার্কওভার সফল হওয়ায় আগামী ১০ বছর প্রতিদিন অন্তত ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, গত ১২ আগস্ট বাপেক্সের নিজস্ব রিগ ‘বিজয়-১২’ দিয়ে বন্ধ কূপটির ওয়ার্কওভার কাজ শুরু হয়। ১৯৬১ সালে আবিষ্কৃত কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রে মোট আটটি কূপ খনন করা হয়েছিল। এখানে প্রমাণিত মজুদ ৮৭৮ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে ৮১২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের ৯২ দশমিক ৪২ শতাংশ।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের কয়েকটি অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভার প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। সব প্রকল্প আশানুরূপ ফল দিলে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


