উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি আবার বাড়ছে। আগামী তিন দিন ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরির পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার দুপুরে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ-সংলগ্ন উজানের ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে আগামী পাঁচ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়েছে। এই বৃদ্ধি আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই নদের পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, আগামী তিন দিন রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
শনিবার পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানায়, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদের পানি কমছে। ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দিয়েছে পাউবো। দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছে জেলা প্রশাসন।
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়তে থাকলে অন্য নদীর পানি সহজে নামতে পারে না। এতে বন্যার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আগামী তিন দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।’


