দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আগামী ৪ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ আদেশ দেন।
এদিন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় দুদকের প্রসিকিউটর মো. নূরে আলম সময় চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করে।
সাক্ষ্যগ্রহণের দিন কারাগার থেকে আসামি সাহেদকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য আসামিরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।
২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। মামলার শুরুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা না হলেও পরবর্তী তদন্তে তার নাম আসায় অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়ন না করা রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে তিন হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীপ্রতি তিন হাজার ৫০০ টাকা করে মোট এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের মাসিক খাবার খরচ বাবদ এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চাহিদা তুলে ধরে এর খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
২০২২ সালের ১২ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরু করে। বিচার চলাকালে আদালত এ পর্যন্ত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।


