দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ১১ হাজার ৪৯৫টি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন। ফলে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশের মোট চিকিৎসকের সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয়। সরকারি হাসপাতালে শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য জনবল মানদণ্ড বিবেচনা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এক গবেষণায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দেশে চিকিৎসক রয়েছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে ৫৮ হাজার ৫৯৮ জন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


