রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ, কামরুল হাসান, মোহাম্মদ সাইফুল হোসেন, জামিল মিয়া ওরফে দোলন এবং মিঠু ওরফে ডোবার মিঠু।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ছয়টি ককটেল, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিসি জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধলপুরের বাদল সরদার গলিতে শরীফের গ্যারেজে বসেছিলেন ইমরান ও সাদ্দাম। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট ও মাস্ক পরা একদল দুর্বৃত্ত সেখানে গিয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়েও তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমরান নিহত হন। গুরুতর আহত সাদ্দাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় ইমরানের স্ত্রী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শুরু করার পর গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পার গেন্ডারিয়াবাগ এলাকা থেকে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে কালিয়া রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, উদ্ধার করা পিস্তলটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিছানার নিচ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ডেমরার পাঠানডোগাই এলাকা থেকে কামরুল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি ককটেল, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি ও দুটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া একইদিন ৭০ পিস ইয়াবাসহ মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুকে এবং পরদিন বুধবার জামিল মিয়া ওরফে দোলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে এবং ককটেল ও অন্যান্য বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় ডেমরা থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। মিঠুর কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলাসহ এ ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। কামরুলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা রয়েছে। মিঠুর বিরুদ্ধেও মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ধলপুর এলাকায় আগে সন্ত্রাসী লিটন ওরফে ‘শুটার লিটন’-এর নেতৃত্বে মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল। লিটন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার সহযোগী খাকি বাবুকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা কারাগারে যাওয়ার পর এলাকায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইমরান হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি সামনে এসেছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছে থাকা আরও কোনো অস্ত্র আছে কি না, তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


