চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ জাহিদুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি জাহিদ (৩৫) হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোহাম্মদ রাসেল। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ৩০ আগস্ট রাতে মোটরসাইকেলে করে মনয়ারাবাদ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন জাহিদুল। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর নিহত জাহিদুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
জাহিদুল ইসলাম পুরানগড় ইউনিয়নের পাঁচঘরিয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম ওরফে সর্বহারা নূরুর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের ফিরোজশাহসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, জাহিদুলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকসহ অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। নগরের বিভিন্ন থানাতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। ফিরোজশাহ এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির সঙ্গে জাহিদুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যৌথ বাহিনীর একটি অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ১৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ১০৪টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়েছে।
পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে জাহিদুলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।


