সাবেক রাষ্ট্রপতিকে অভিযুক্ত করে চাপে ইসলামী ব্যাংক

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে অভিযুক্ত করে চাপে ইসলামী ব্যাংক
Advertisement
Advertisement

ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিযুক্ত করে চাপে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। এই চাপ থেকে বাঁচতে অভিযোগ দাখিলকারী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ব্যাংকটি। যদিও ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের লিখিত নির্দেশনার আলোকে আদালতে ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করেছিলেন ওই কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা টাইমসকে বলেছেন, অভিযুক্তের তালিকায় সাবেক রাষ্ট্রপতিকে রাখায় ‘সরকারের দিক থেকে ইসলামী ব্যাংক চাপে পড়েছে।’ যে কারণে ‘বলির পাঠা’ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে।

ঋণের নামে ৫00 কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ৩৮ জনের বিরুদ্ধে সোমবার অভিযোগ দাখিল করেন ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার এফএভিপি মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী।

এর পরদিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ আনা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ওই কর্মকর্তা দুদক ও আদালতে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

তবে টাইমসের হাতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের নথি বলছে ভিন্ন কথা। ২৭ জুলাইয়ের দুটি দাপ্তরিক পত্রে দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংক তাদের গ্রাহক সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ও আদালতে অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার এফএভিপি মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীকে আদালতে ও দুদকে উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগ দায়ের এবং পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ওই নথিতে।

আরও পড়ুন

এই ক্ষমতার প্রেক্ষিতে সোমবার ওই অভিযোগ দাখিল করার পরদিনই উল্টে যায় ব্যাংকের অবস্থান।

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে অভিযুক্ত করে ইসলামী ব্যাংক সরকারের পক্ষ থেকে চাপে পড়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামী ব্যংকের পর্ষদের পূর্ণ ক্ষমতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না, কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

নথি বলছে, এই অভিযোগ দাখিলের আগে চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করেছিল ইসলামী ব্যাংক। ওই তদন্তে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম এবং অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা উঠে এসেছে।

ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়ানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরে ওই ঋণের অর্থ উত্তোলন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মসাৎ করেছে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গঠিত পরিচালনা পর্ষদে তিনি যুক্ত হন। ওই সময়ই সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।

কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে আবার তাকেই ‘বলির পাঠা’ করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান টাইমসকে বলেন, ‘এটি ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যদি বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আসে তখন কর্তৃপক্ষ দেখবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad