কর্ণফুলী টানেলের বাস্তবায়ন ও বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি), বাস্তবায়ন এবং বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টানেল-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে কমিটি কাজ করবে বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়। এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান এক হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের তালিকা কমিটির সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসব প্রকল্পের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র উপস্থাপন করে সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটিকে জানানো হয়।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরা হয়। ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আমদানিনির্ভরতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে সমস্যা, যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ঘাটতি, সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়া এবং আন্তমন্ত্রণালয় বিরোধকে মেয়াদ বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে এ নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কার্যকর সমাধান হবে বলে আশা করা হয়।
বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমানো এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ২২১টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন গ্রেডে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয় বৈঠকে। শূন্য পদের বিপরীতে সুপরিকল্পিত কর্মভার নির্ধারণ করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেন কমিটির সভাপতি।
বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম ও মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।


