সাত দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতে শনিবার ১১ দলের লংমার্চ

সাত দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতে শনিবার ১১ দলের লংমার্চ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতে ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

শনিবার এ কর্মসূচি পালিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার গণভোটের রায় অস্বীকার করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে। এ সংকটের সমাধান সংসদেই করতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। লংমার্চের প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলের সাত দফা দাবির মধ্যে প্রথমটি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, বিএনপি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও গণভোটে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। গণভোটের অধ্যাদেশ জারির পর নির্বাচন ও সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত বিএনপি কখনো একে সংবিধানবিরোধী বলেনি। এখন ক্ষমতায় গিয়ে গণভোটের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষায়, ‘একটা ভোটকে ইনজয় করে আপনি প্রধানমন্ত্রী আর এমপি হয়ে গেলেন, আরেকটা অস্বীকার করলেন।’

তিনি বলেন, আগামী ৯ তারিখে সংসদ অধিবেশন রয়েছে। সরকার আন্তরিক হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডেকে বিষয়টি সংসদে নিষ্পত্তি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও দাবি করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন জামায়াতের এই নেতা। তার অভিযোগ, সরকার একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে। এতে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

১১ দলের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ করা।

জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকে এখনো দেশে-বিদেশে চিকিৎসাধীন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও দলীয় কোন্দল বেড়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রায় ২০০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সচিবালয় থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণ চলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ রাখার প্রতিশ্রুতি বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারেও ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, হাট, ঘাট, বালুঘাট, টেম্পো স্ট্যান্ড ও রিকশা স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় আগের মতোই চাঁদাবাজি চলছে। ‘আগে চাঁদাবাজি করত, শুধু জায়গা আর লোক বদল হয়েছে, দলের নামটা শুধু পাল্টে গেছে। সাইনবোর্ডটা পাল্টে গেছে, কাম একই চলতেছে’ বলেন তিনি।

আগামীকালের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। সকাল ৮টায় সেখান থেকে গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে। ঢাকা-মাওয়া সড়ক, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর হয়ে খুলনায় পৌঁছাবে লংমার্চ। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়ামে কর্মসূচি শেষ হবে।

কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া যাবে না। পথে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও অংশগ্রহণকারীদের গাড়ি থেকে না নেমে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়েও কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়া দায়িত্ব পালন, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, অন্যের ভোট দেওয়ার অভিযোগ এবং ফলাফল ঘোষণার আগে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য শতভাগ সত্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শেষে ফলাফলের বিষয়ে দলীয় অবস্থান জানানো হবে। ‘আমরা এখনো এই ফলাফল সম্পর্কে মন্তব্য করিনি,’ বলেন তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যে কোনো বিভক্তি নেই দাবি করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্য অটুট থাকবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad