কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রবাসী রোকন হত্যার বিচারের দাবিতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী ও নিহতদের স্বজনরা। এসময় সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। অবরোধে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার বেশি সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা ‘ওসি, ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে রোকন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় মহাসড়কের ওপর আন্দোলনকারীদের একপর্যায়ে ফুটবল খেলতেও দেখা যায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে নিহত রোকনের ছোট বোন মারিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ভাই জীবিকার তাগিদে সিঙ্গাপুরে পাড়ি দেন। সেখানে দুই বছর থাকার পর ছুটিতে দেশে আসেন। আসার পর রাতের বেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বাড়ির সামনে গাছের ডালায় হাত,পা বেঁধে ঝুলিয়ে রেখে যায়। হত্যার এক মাস ফেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি খুনের রহস্য। পুলিশ প্রশাসনের কাছে গেলে বলে, ধৈর্য্য ধরেন। আমরা আর কত ধৈর্য্য ধরব?’
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রবাসী রোকনকে নির্মমভাবে যারা হত্যা করেছে তাদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। কিছু দিন আগে আমরা যখন মানববন্ধন করেছিলাম তখন পুলিশ আমাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু ঘটনার এক মাস পার হলেও পুলিশ খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত খুনিদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করবে।’
নিহতের বাবা সাত্তার মিয়া জানান, ছেলে একমাস আগে ছুটিতে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসে। ঘটনার দিন তার কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার কথা ছিল।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী যুবক রোকন আহমেদ ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের নয়াহাটি এলাকার সাত্তার মিয়ার ছেলে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বসত বাড়ির সামনে গাছের ডাল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রোকনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার হাত, পা বাঁধা ছিল। আগের দিন ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে খাবার খেয়ে সে তার ঘরে ঘুমাতে যায়। রাত দুইটায় তাকে কে বা কারা মোবাইলে ঘর থেকে ডেকে নেয়। ঘটনার এক মাস পার হয়ে গেলেও খুনের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সিঙ্গাপুর প্রবাসী যুবকের মৃত্যু রহস্যজনক। তার পরিবারের সদস্যরাও বলতে পারছে না তাকে কারা এভাবে হত্যা করেছে। তবে যুবকের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশসহ ডিবি তদন্ত করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।


