রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। তবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান টাইমসকে বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করা হবে।
কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এর আগে কখনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়নি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি ৫০ হার্জ রাখতে হবে। এর কমবেশি হলে রিঅ্যাক্টর বন্ধ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে রিঅ্যাক্টর পুনরায় চালু করতে অতিরিক্ত জ্বালানির প্রয়োজন হবে।
বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।
এ পর্যায়ে চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক পারমাণবিক বিক্রিয়া তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে চুল্লির শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। এর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। স্টেজ ‘বি-১’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। এরপর শুরু হয়েছে পরবর্তী ধাপ ‘বি-২’। এ ধাপে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার পরই শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়।
ক্রিটিক্যালিটি হলো পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন প্রতিষ্ঠার পর্যায়। এ অবস্থায় চুল্লির শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিকভাবে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম।
সরকার আশা করছে, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টর চালু বা ফুয়েল লোডিংয়ের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।


