ঝড়ো বৃষ্টি ও বজ্রপাতে দোহাজারি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর বান্দরবানের জেলা সদরসহ চার উপজেলায় আবার শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
বান্দরবানের চার উপজেলায় শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ঝড়ো বৃষ্টি এবং প্রবল বজ্রপাতে ন্যাশনাল গ্রিড-এর ১৩২/৩৩ কেভি দোহাজারি গ্রিড লাইনের সাব-স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দোহাজারি পয়েন্ট থেকে বান্দরবানে ৩৩ কেভি সাপ্লাই পয়েন্টে দু’টি কারেন্ট ট্রান্সফরমার (সিটি) পুড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বান্দরবান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম আমীর জানান, ঘটনার পরপরই বান্দরবান থেকে তার নেতৃত্বে দু’টি কারিগরি টিম কাজ শুরু করে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই টানা সাত ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার দু’টি সরিয়ে নতুন করে স্থাপন করা হয়। এতে রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার সচল হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার দোহাজারি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে ন্যাশনাল গ্রিড থেকে বান্দরবানের সাতটি উপজেলার মধ্যে জেলা সদর, রুমা, থানচি এবং রোয়াংছড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু থেকে আলাদা আলাদা গ্রিড লাইনের মাধ্যমে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষংছড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগ এ তিনটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে।
এর ফলে দোহাজারিতে ট্রান্সফরমার পুড়ে জেলার চারটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও লামা, আলীকদম ও নাইক্ষংছড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।
আরও জানা যায়, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ন্যাশনাল গ্রিডের কাপ্তাই পয়েন্ট থেকে বান্দরবানে আরেকটি বিকল্প সরবরাহ লাইন স্থাপনে দুই বার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল এবং কয়েক মাস আগে আরেকবার মিলিয়ে মোট দু’বার এই বিকল্প লাইন উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু গত ২০ বছরে দোহাজারি গ্রিড লাইন ফেল করলে কখনো ‘কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া-বান্দরবান’ বিকল্প গ্রিড লাইনকে কাজে লাগানো যায়নি।


