দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের এক আক্ষেপ আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের এবার সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আগামী সোমবার সকাল ১০টায় এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে ৫০০ ক্রীড়াবিদের কথা শোনা গেলেও, প্রথম ধাপে বাছাইকৃত ১২৯ জন অ্যাথলেটকে এই ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এই নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন।
জাতীয় পর্যায়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা অ্যাথলেটদের জন্য এটি কেবল একটি আর্থিক অনুদান নয়, বরং একে একটি ‘পারফরম্যান্স ভিত্তিক চুক্তি’ হিসেবে দেখছে মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সরকারি ভাতা স্থায়ী কোনো অধিকার নয়, বরং মাঠের নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করবে এর স্থায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘শুধু জাতীয় পর্যায়ে যারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তারাই এই ভাতা পাবেন। তবে এই তালিকা আমরা প্রতি চার মাস পর পর পর্যালোচনা করব। পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে তারা ভাতা চালিয়ে যেতে পারবেন, নতুবা তালিকা থেকে সংযোজন-বিয়োজন হবে।’ অর্থাৎ, মেডেল জয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন থেকে অ্যাথলেটদের লড়াই করতে হবে নিজেদের আর্থিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যও।
প্রথম ধাপের এই তালিকায় স্থান পেয়েছে আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, ভারোত্তোলন, উশু, প্যারা অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক তাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, ব্রিজ এবং ফুটসালের মতো ডিসিপ্লিনগুলো। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই খেলা ক্রিকেট ও ফুটবলের কোনো প্রতিনিধি আপাতত এই তালিকায় নেই। এই সিদ্ধান্তটি বৈষম্যমূলক মনে হতে পারে অনেকের কাছে, তবে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যায় ফুটে উঠেছে এক ভিন্নধর্মী কৌশল। তিনি সরাসরিই বললেন, ‘ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল, তাই তাদের নিয়ে আমরা পরবর্তীতে ভাবব। আমরা আপাতত জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা ইভেন্ট ও ক্রীড়াবিদদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিতে চাই।’
ক্রীড়াঙ্গনের এই কাঠামো বদল মূলত প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। বড় ব্র্যান্ডের পেছনে না ছুটে সরকার এখন সেই সব অ্যাথলেটদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, যারা চরম অর্থসংকটের মাঝেও বিদেশের মাটিতে দেশের পতাকা তুলে ধরেন। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপের আরও একটি তালিকা প্রকাশ করার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আপাতত ১২৯ জনকে দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা বাংলাদেশের অপেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে কতটা পেশাদারিত্বের ছোঁয়া আনতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।


