আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ‘এবার ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়। অনেক সময় ভোট গণনা দেরি হলে গুজব তৈরি হয়। কারণ, এবার শুধু নির্বাচন নয়, সঙ্গে একটি গণভোটও হচ্ছে। ফলে দুই ধরনের ভোট একসঙ্গে গণনা করতে হবে। এর সঙ্গে আছে পোস্টাল ব্যালট। এজন্য কিছু ক্ষেত্রে ভোট গণনায় বিলম্ব হতে পারে।’
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকের পর রাজাধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, ‘এবার ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়। অনেক সময় ভোট গণনা দেরি হলে গুজব তৈরি হয়। কারণ, এবার শুধু নির্বাচন নয়, সঙ্গে একটি গণভোটও হচ্ছে। ফলে দুই ধরনের ভোট একসঙ্গে গণনা করতে হবে। এর সঙ্গে আছে পোস্টাল ব্যালট। এজন্য কিছু ক্ষেত্রে ভোট গণনায় বিলম্ব হতে পারে।’
‘এই বছর অনেক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই খুব ভালোভাবে ভোট গণনা হোক। সে ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে, যোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের সচিবের বরাত দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘পাবনা-১ ও পাবনা-২ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর হয়েছে। তাই ৩০০ আসনেই নির্বাচন হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার মধ্যরাত থেকেই ব্যালট পেপার ছাপা শুরু হবে।’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ৬২ শতাংশ এবং গোলাবারুদের ৫২ শতাংশ সেনাবাহিনী উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনে ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এক হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে ২৫ হাজার ৫০০ পুলিশের বডি ক্যামেরা। এ ছাড়া ৫০০ ড্রোন ও ৫০টি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে।’
তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড পরিমাণ ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে এক লাখ সেনাসদস্য, ১৫ হাজার নৌবাহিনী, তিন হাজার ৭৩০ কোস্ট গার্ড, দেড় লাখ পুলিশ এবং প্রায় আট হাজার র্যাব সদস্য থাকবেন। প্রথমবারের মতো ফায়ার সার্ভিসও নির্বাচনী নিরাপত্তায় যুক্ত থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জেলা প্রশাসকের অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে ড্রোন ওড়ানোর ওপর বিধিনিষেধ থাকবে বলেও জানান প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের সহায়তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচনের দিন শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই। নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত হবে।’
শফিকুল আলম জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩২ জন।


