রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবুল ইসলাম হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. গোলাম রসুল শিহাব, মো. রাফিন শেখ, শাহারিয়ার নাজিম জয়, মো. সাগর ফকির এবং সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা।
শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে রাকিবুল ইসলাম তার মোটরসাইকেল পার্ক করার সময় ৫-৬ জন অজ্ঞাত যুবক তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পেছন থেকে পিস্তল দিয়ে একাধিক গুলি করে। রাকিবুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই ওইদিন রাতে উপস্থিত জনতার সহায়তায় পুলিশ মো. গোলাম রসুল শিহাবকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন খুলনার লবণচরা থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাফিন শেখ ও শাহারিয়ার নাজিম জয়কে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানা এলাকা থেকে সাগর ফকিরকে আটক করা হয়।
এদিকে সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সাকা খুলনা অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ভাড়াটে খুনিদের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


