রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: দুই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৮

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: দুই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৮
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস। ছবি: রফিক মাহমুদ/টাইমস
Advertisement
Advertisement

টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও ৩ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

নিহতদের মধ্যে জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই পরিবারের তিনজন এবং বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। এছাড়া ৭ নম্বর আশ্রয়শিবিরে আরও এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার রাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪)-এর বসতঘরের ওপর। এতে পরিবারের ছয় সদস্য মাটিচাপা পড়েন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন পুলিশ, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক ও বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। একই ঘটনায় আহত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালায়। তিনজনকে মৃত এবং তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনটি ঘটনাস্থলেই আমারা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছি। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।”

এদিকে একই রাত ২টার কুতুপালং টিভিকেন্দ্র সংলগ্ন ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে মারা যায় মো. একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশু। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।

আরও পড়ুন

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘পাহাড়ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’

অন্যদিকে রাত ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আরও একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন নিহত এবং একজন আহত হন।

নিহতরা হলেন— আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসের পর পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন, এপিবিএন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে।

ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার।

কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরও কয়েকদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad