মাদক চালান নিয়ে নাফ নদীতে গোলাগুলি, ২ রোহিঙ্গা আটক

মাদক চালান নিয়ে নাফ নদীতে গোলাগুলি, ২ রোহিঙ্গা আটক
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে নাফ নদী এলাকায় আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মাদক চালান ছিনিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ঘটনায় দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদকপাচার এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শনিবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীন হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ নাফ নদী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৩-এর উত্তর-পূর্ব দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাব্যিক চর এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিসহ একটি নৌকা সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধের দিকে আসছিল। এ সময় তিন সদস্যের একটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল পৃথক নৌকায় তাদের ধাওয়া করে এবং সূইচগেট এলাকায় নৌকা থামানোর নির্দেশ দেয়।

নৌকাটি না থামালে ডাকাতরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার ও আটক করে।

আটক দুই ব্যক্তি হলেন—ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩)। তারা উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গুলির শব্দ শুনে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ঈদ উপলক্ষে বেড়িবাঁধ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালানো হয়নি। পরে ডাকাত দলের নৌকা সুলিশপাড়া হয়ে কাব্যিক চরের দিকে চলে গেলে বিজিবি ধাওয়া করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাত দল আটক দুই ব্যক্তির নৌকা থেকে জালসদৃশ কিছু বস্তু নিজেদের নৌকায় তুলে নেয়। পরে নৌকাটি নদীর মাঝখানে নিয়ে ডুবিয়ে দিয়ে দ্রুত সরে যায়।

বিজিবির প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আটক দুই ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় মাদক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গিয়েছিল। আরেকটি রোহিঙ্গা ডাকাত চক্র সেই মাদকের চালান ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হামলা চালায়।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং মাদক ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধচক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আক্কাস আহমদ বলেন, নাফ নদী দীর্ঘদিন ধরে মাদকপাচার, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ করিডর হিসেবে পরিচিত।

তার মতে, সীমান্তে সক্রিয় রোহিঙ্গা সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা—উভয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। অপরাধী নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে সমন্বিত অভিযান জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির প্রভাব বৃদ্ধির ফলে সীমান্ত এলাকায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবে কোনো ঘটনার সঙ্গে নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা দাবি করার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত জরুরি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর