ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কারও নিহত হওয়ার খবর নাকচ করেছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির। সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের উপস্থিতিতে প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি এ দাবি করেন।
এর আগে সন্ধ্যায় হাসপাতালের অষ্টম তলায় আগুন লাগে। এসময় আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় পদদলিত হয়ে প্রথমে ছয়জন ও পরে চারজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরে।
সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নিহত হওয়ার নাম ছড়িয়ে পড়া জাহানারা বেগম নামের একজন জীবিত আছেন, তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদও একই দাবি করেন।
তবে হাসপাতালে আগুন লাগার পর আতঙ্কে সবার দৌড়াদৌড়ির সময় সিঁড়িতে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। তারা হলেন তারাকান্দার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং ফুলপুরের রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের শাহাজাহান মনির (৪৫)।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগে। লিফট কন্ট্রোল রুমের বোর্ডে অতিরিক্ত উত্তাপ ও বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
অগ্নিকাণ্ডে দ্রুত পুরো ভবনে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের দুটি সিড়ির মধ্যে একটি বন্ধ থাকায় খোলা সিড়ি দিয়ে রোগী ও স্বজনরা হুড়োহুড়ি করে নামার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


