দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং পেশাগত বিনিময় বাড়াতে পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে চীনের তিনটি যুদ্ধজাহাজ। বৃহস্পতিবার চীনের তাং শান, দা ছিং ও তাই হু যুদ্ধজাহাজ বন্দরে পৌঁছায়।
চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডারের চিফ স্টাফ অফিসার বন্দরে জাহাজ তিনটিকে স্বাগত জানান। এ সময় নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত বাদক দল ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করে সফরকারী জাহাজগুলোকে অভ্যর্থনা জানায়।
চীনা জাহাজগুলোকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীনা নাগরিক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চীনা জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস উমর ফারুক সেগুলোকে স্বাগত জানায় এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে এগিয়ে নিয়ে আসে।
সফরকালে তিনটি জাহাজের অধিনায়ক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের সামরিক অ্যাটাশের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, বাংলাদেশ নৌবহরের কমান্ডার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে।
এ সফরে দুই দেশের নৌবাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন পেশাগত ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।
চীনা জাহাজগুলোর কর্মকর্তা ও নাবিকেরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও নৌঘাঁটির পাশাপাশি চট্টগ্রামের কয়েকটি দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরাও চীনা জাহাজগুলো পরিদর্শন করবেন।
এসব পারস্পরিক পরিদর্শনের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর সদস্যরা একে অপরের পরিচালন পদ্ধতি ও পেশাগত মান পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা নিয়েও তারা মতবিনিময় করবেন।
দুই দেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের মধ্যে আরও বেশি পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করে এ শুভেচ্ছা সফর বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, এ ধরনের বিনিময় পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, পেশাগত সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
পাঁচ দিনের সফর শেষে ২১ সেপ্টেম্বর চীনা নৌবাহিনীর জাহাজ তিনটির বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।


