বেহাল লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

বেহাল লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
Advertisement
Advertisement

লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কের চন্দ্রগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুর সদর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার অংশ এখন যেন এক মৃত্যুফাঁদ। সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কাদা ও ময়লা-আবর্জনায় একাকার। এতে করে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা,  বিকল হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন।

আধা ঘণ্টার এই পথ অতিক্রম করতে এখন সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকেরা।

গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় প্রায়ই গর্তে আটকে যাচ্ছে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। গত তিন মাসে এই সড়কে অন্তত ১৫টি দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। সামান্য অসাবধানতায় গাড়ি উল্টে যাওয়ার আতঙ্কে থাকেন চালকেরা। অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে বিকল হচ্ছে যন্ত্রাংশ, শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন চালক ও যাত্রীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও মানা হচ্ছে না কোনো নিয়ম। ধুলোবালি বন্ধে দিনে একাধিকবার পানি ছিটানোর কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করছে না। পাশাপাশি নিম্নমানের বালু ও খোয়া দিয়ে দায়সারা সংস্কার কাজ করার অভিযোগও তুলেছেন তারা। মনিটরিংয়ের অভাবেই কাজের এই বেহাল দশা বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভার বৈঠকে সড়কের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি দ্রুততম  সময়ের মধ্যে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেন।

লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাজে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad