ভারতে রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাসবাদ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ব্যঙ্গ করে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
এ সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন মমতা।
তার অভিযোগ, ভিন্নমত দমন ও প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং দেশে রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাস চলছে। পুলিশের সহায়তায় এই দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মমতা বলেন, আশুতোষ ও সৌরভের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যোগ্য দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের ওপর দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান।
বিবৃতিতে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের মুক্তির দাবি জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলেন, কর্তৃপক্ষের যদি গণতন্ত্রের প্রতি সামান্যতম আস্থাও থাকে, তাহলে আশুতোষ ও সৌরভকে অবিলম্বে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই মুক্তি দিতে হবে।
সোমবার আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আরও পাঁচদিন হেফাজতে রাখার আবেদন করে দিল্লি পুলিশ। শুনানি শেষে মেয়াদ দুইদিন বাড়িয়ে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বিচারিক হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
আগামী ২১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে তারা দিল্লির তিহার কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে বিবৃতিতে ক্ষমতাসীনদের সতর্ক করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘যারা আজ ক্ষমতায় রয়েছেন, তারা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন না।’
কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকি মুম্বাইয়েও দমন-পীড়নের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে দাবি করে তিনি বলেন, সারা দেশে নিপীড়নের মাত্রা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে মমতা বলেন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় স্বাধীনতাসংগ্রামীদেরও নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু তারা নিজেদের বিশ্বাসে অটল থেকে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, মানুষ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে রাজপথে নামলে ক্ষমতাসীনদের অহংকার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে এবং গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি পরাজিত হবে।


