বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে ভারতে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মহাষ্টমীর দিন পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে পুজোমণ্ডপে উপস্থিত হয়ে তিনি দাবি করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মতো অস্থিরতা গোটা দেশেও ছড়িয়ে দিতে চাইছে। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সোমবার কাঁথিতে নিজের বাড়ি এলাকার একটি পুজোমণ্ডপে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কমিউনিস্ট নই, নাস্তিক নই, জামাত নই। আমি একেবারে খাঁটি হিন্দু পরিবারের ছেলে, সনাতনী।’
তার বক্তব্য, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত পুজো দিয়ে আসছেন। এটি তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও কর্তব্যের বিষয়, এর সঙ্গে সরকারি পদের কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রসঙ্গ থেকে রাজনৈতিক আক্রমণেও সরব হন শুভেন্দু। বামপন্থীদের নিশানা করে তিনি বলেন, যারা বিভিন্ন বিষয়ে বড় বড় কথা বলেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ধর্মীয় আচরণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া, চরণামৃত নেওয়া কিংবা হাতে পবিত্র সুতো বাঁধার মতো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
এদিনের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
তার কথায়, ‘এরা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে গোটা দেশে একটা অস্থিরতা কায়েম করতে চাইছে। এদের যেকোনো মূল্যে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে।’ যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ করেননি তিনি।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দুর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাংলাদেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ফলে পুজোর মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য অস্থিরতাকে জুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
এদিন চোরবাগানে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তবে তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অস্থিরতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা।
বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতার আশঙ্কা প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী যে বার্তা দিলেন, তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।


