ভাটারার গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে দগ্ধ ফাহিমারও মৃত্যু

ভাটারার গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে দগ্ধ ফাহিমারও মৃত্যু
গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে নিহত ফাহিমা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ভাটারার গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ ফাহিমাও মারা গেছেন। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে মারা যান তিনি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ফাহিমার ভাগ্নি হাফসা  (৮) এবং শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে স্বামী শাহিন (২৪) মারা যান।  এ নিয়ে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ তিনজনেরই মৃত্যু হলো।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাহিনের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং হাফসার ৪০ শতাংশ এবং ফাহিমা ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

নিহত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ নানা পণ্যের অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল নিজের ব্যবসাকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার। সেই লক্ষ্যেই মাত্র দেড় মাস আগে স্বামী শাহিনের হাত ধরে উঠে এসেছিলেন রাজধানীর বাড্ডার ভাড়া বাসায়। পরম মমতা আর মায়ের স্নেহে বড় করে তুলবেন—এই আশায় সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন বড় বোনের আট বছরের শিশুকন্যা হাফসাকে।

ভাটারার গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে নিহত হাফসা ও শাহীন। ছবি: টাইমস

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের ৯ নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহিনের সাথে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের সাথে ঢাকায় পড়তে এসেছিল ফাহিমার ভাগনী হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ বাসাটায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজনই গুরুতর দগ্ধ হন।

আরও পড়ুন

প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন জানান, শাহিন একটি কাপড়ের শোরুমে কাজ করতেন। বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তিনজনকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ফাহিমার চাচি শামীমা সুলতানা অভিযোগ করেন, বাসায় ওঠার পর থেকেই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানানো হলে একবার পাইপ মেরামত করা হলেও পরে একাধিকবার লিকেজ হলেও আর তা ঠিক করা হয়নি। বাড়িওয়ালার অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মেয়েকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিতা গোলাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাসায় ওঠার পরপরই আমরা বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের এই কথাকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি! সময়মতো একটু ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মা’টা বেঁচে থাকত। অবহেলার কারণে আজ আমার মেয়েকে হারালাম, আমি এই অবহেলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে আমার বড় মেয়ের ঘরের নাতনী হাফসাও ঢাকায় গিয়েছিল। ওদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ছিল আমাদের। কিন্তু সামান্য একটা অবহেলা আর অসাবধানতায় এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad