বোরকা পরে জঙ্গল সলিমপুরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াছিনের পালানোর গুঞ্জন

বোরকা পরে জঙ্গল সলিমপুরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াছিনের পালানোর গুঞ্জন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ বাহিনীর চালানো অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, অভিযানের আগেই বোরকা পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মো. ইয়াছিন।

সোমবার ভোর থেকে জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। বাহিনীর প্রায় তিন হাজার সদস্য এতে অংশ নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত জানুয়ারিতে র‍্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়া হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করাই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। ওই মামলায় ‘ইয়াছিন, নুরুল হক ভান্ডারী, ফারুকসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে, অভিযান শুরুর আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন ইয়াছিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ভোরের দিকে পাহাড়ি একটি গোপন পথ দিয়ে বোরকা পরা একজনকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, তিনি ইয়াছিন হতে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় বিভিন্ন ছদ্মবেশে এলাকা ত্যাগ করেছেন তিনি। কখনও নারী বেশে, কখনও সিএনজি চালকের পরিচয়ে তিনি এলাকা ছাড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকা ঘিরে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি করছে, অন্য দলগুলো পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে চেকপোস্টও বসানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে রয়েছে অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া, ঘন ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত ঘর। এসব জায়গাকে অনেক সময় অপরাধীরা আত্মগোপনের জন্য ব্যবহার করে। পাহাড়ি পথগুলো সংকীর্ণ হওয়ায় সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অভিযান চালাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের পর জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে একাধিক অভিযানের পর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন ইয়াছিন।

অভিযোগ রয়েছে, জঙ্গল সলিমপুর ও কাছের আলীনগর এলাকায় পাহাড় কেটে প্লট তৈরি, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সেবা খাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, এসব কর্মকাণ্ড থেকে মাসে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭–এর উপপরিচালক আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে ওই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দুই সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর