বিশ্বব্যাপী সংঘাত ও পরিবর্তিত নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অধিক রাজনৈতিক সমর্থন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও আধুনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত ‘উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ: জাতিসংঘ সামরিক শান্তি রক্ষাকারীরা যেভাবে সংলাপ ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করেন’ শীর্ষক এক ইভেন্টে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান জটিল ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা শান্তিরক্ষা মিশনের বেসামরিক সুরক্ষা ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পরিবর্তিত যুদ্ধপ্রযুক্তি থেকে উদ্ভূত নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় শান্তিরক্ষীদের আরও প্রস্তুত ও সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি গাজা পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সংঘাত নিরসনে সংলাপভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সামরিক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেরিল পিয়ার্স, মিনুস্কার ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামফ্রে নিয়োনে এবং ইন্দোনেশিয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হার্লি সিনাগা শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, উরুগুয়ে, জাম্বিয়া ও স্টিমসন সেন্টার যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সামরিক নেতৃত্ব, শান্তিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


