বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় প্রতারণার দায়ে দুই প্রার্থীকে ভবিষ্যতে বার কাউন্সিলের কোনো পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মুহাম্মদ সাইফুল আমিন ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার এম আর আকাশ।
বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির ১৩ আগস্টের সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তরে তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ জুন অনুষ্ঠিত এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। তাদের একজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যজন পরীক্ষায় উপস্থিত হয়ে সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা দেন। পরে দুজনই ওই পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি করেন।
এ ঘটনায় উভয় প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাদের জবাব পর্যালোচনা করে এনরোলমেন্ট কমিটি তা ‘বাস্ততাবিবর্জিত, খামখেয়ালিপূর্ণ এবং কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়’ বলে বিবেচনা করে।
কমিটির মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বার কাউন্সিলের সঙ্গে সচেতনভাবে প্রতারণার শামিল। ভবিষ্যতে তারা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে সাধারণ মানুষের আইনগত সেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইন পেশার উচ্চ মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতারণার মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের পেশায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা আইন অঙ্গনের মর্যাদা ও সাধারণ মানুষের আইনি সেবা পাওয়ার অধিকারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এই কারণেই দুই প্রার্থীকে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে অন্য পরীক্ষার্থীদের বিরত রাখার জন্য কঠোর বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে কমিটি।


