চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড/ বাধা সরু গলি ও পানির সংকট, ২১ ঘণ্টা পরও বের হচ্ছে ধোঁয়া

বাধা সরু গলি ও পানির সংকট, ২১ ঘণ্টা পরও বের হচ্ছে ধোঁয়া
ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/ টাইমস
Advertisement
Advertisement

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় মনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় একটি গুদামে লাগা আগুন ২১ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত পানির উৎসের অভাব, সরু গলি ও ভবনের ভেতরে ধোঁয়া ও তাপ বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। এ ছাড়া মাঝেমধ্যেই ভবনের ওপরের তলার জানালার কাচ ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।

এ কারণে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির সামনের সড়কের দুই পাশে ব্যারিকেড দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নির্বাপণে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ওয়াসার পানিবাহী গাড়িতে করে পানি আনতেও দেখা গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, কত টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ বলতে পারবে। এটি নির্ধারণ করতে কিছুটা সময় লাগবে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আগুন নির্বাপণের কার্যক্রম চলমান থাকায় এখনই এর কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা কেউই আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। ভবনে বিদ্যুতের লাইন থাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে তদন্তের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের শিফট ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টেশন অফিসার রুহুল আমিন জানান, সরু গলি ও পানির সংকটের মতো সীমাবদ্ধতার কারণে আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় ঘটনাস্থলে কাজ করা ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটের সংখ্যা ১২টি থেকে কমিয়ে ছয়টিতে আনা হয়েছে।

কাজী নজমুজ্জামান বলেন, মনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠতলায় ১২ থেকে ১৪টি বড় গোডাউন রয়েছে। এর মধ্যে সাত থেকে আটটি গোডাউনে আগুন লেগেছিল। এসব গোডাউনে ছাতা, কসমেটিকস, আতরের বোতল, আতরসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল। গোডাউনগুলো মালামালে পূর্ণ থাকায় সেগুলো সরিয়ে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে সময় লাগছে।

পানির সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশপাশে থাকা পানির রিজার্ভগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে পাম্প ও রিজার্ভার পরিবর্তন করে অন্য রিজার্ভার থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়েছে।

আরও পড়ুন

বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে এখন আর আগুন নেই। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মালামালে গোডাউনভর্তি থাকায় সেগুলো সরানো হচ্ছে এবং পানি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে মাঝে মাঝে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আগুন নির্বাপণের কার্যক্রম এখনো চলমান। বিভিন্ন গোডাউন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। মালামাল সরানো না হলে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হবে না। কারণ, মালামালের নিচে থাকা তাপ ও ধোঁয়া থেকে আবার আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

বর্তমানে আগুন নির্বাপণে ছয়টি ইউনিট কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, মালামাল সরানো ও পানি দেওয়ার কাজ চলছে। আগুন পুরোপুরি না নিভিয়ে ফায়ার সার্ভিস চলে গেলে আবার আগুন জ্বলে উঠতে পারে।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, কত টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ বলতে পারবে। এটি নির্ধারণ করতে কিছুটা সময় লাগবে।

আগুনের ভয়াবহতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ যেভাবে মনে করছিল অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেভাবে কিন্তু মার্কেটটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই। এই প্লাজার সঙ্গে আরও তিন থেকে চারটা মার্কেট সংযুক্ত। আমরা চেষ্টা করেছি আগুনটা যাতে আশেপাশে কোনো জায়গায় ছড়ায়ে যাইতে না পারে।’

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ভবনটির ষষ্ঠ তলার গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনসামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য ও রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে।

এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তলার একটি ব্যাগের গুদামের মালিক শাহনুর আলম জানান, তার গুদামে থাকা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার পণ্য পুড়ে গেছে।

আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট। তবে ভবনের ভেতরে অতিরিক্ত ধোঁয়া ও তাপ থাকায় তারা তদন্তকাজ শুরু করতে পারেনি।

এর আগে, সোমবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুন পুরোপুরি নেভাতে এরপরও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন চার ফায়ার সার্ভিস কর্মী। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সোমবার বিকাল ৫টা ২ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার ছোট কাটরা এলাকার এসি মসজিদসংলগ্ন মনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলার একটি গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লালবাগ থেকে দুটি ইউনিট, সদর দপ্তর সিদ্দিকবাজার থেকে দুটি ইউনিট এবং পলাশী থেকে আরও দুটি ইউনিটসহ মোট ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরপর আগুণের তীব্রতা বাড়ায় পরবর্তীতে ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট কাজ করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, ছয় ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ রয়েছে। এর মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের কৌশল প্রয়োগ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ছয়তলায় থাকা গোডাউনগুলোতে শাটার ও তালা লাগানো ছিল। প্রতিটি গোডাউনে চার-পাঁচটি তালা ছিল। ভেতরে কলাপসিবল গেটেও তালা লাগানো ছিল। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের মধ্যে এসব তালা কেটে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের সদ্যস্যদের।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad