সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির সাবেক প্রধান নির্বাহী খাতের মাসাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় বাংলাদেশে থাকা তার শেয়ার বাজেয়াপ্তের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে দেশটি।
বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে সহযোগিতা চান বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আলহামুদি।
সাক্ষাৎ শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএইকে সহযোগিতা করার যে উদ্যোগ, তা অব্যাহত থাকবে এবং আরও গতিশীল করা হবে।
জানা গেছে, খাতের মাসাদ ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাস আল-খাইমাহ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশে পাচার করে তিনটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশের তিনটি কোম্পানির মধ্যে একটিতে ছয় কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার, দ্বিতীয়টিতে দুই কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার এবং তৃতীয়টিতে চার কোটি ৪৭ লাখ ১৬ হাজার ৮০টি শেয়ার রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স চুক্তির আওতায় ২০১৮ সালের ১৪ মে রাস আল-খাইমাহর বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় ইউএই। একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা ওই শেয়ার জব্দের অনুরোধ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৬(৪) ধারা অনুযায়ী মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করে। ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি শুনানি শেষে বিচারিক আদালত শেয়ার বাজেয়াপ্তের আদেশ দেয়।
ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খাতের মাসাদ হাইকোর্টে ১০১১/২০২১ নম্বর আপিল মামলা করেন। হাইকোর্ট আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী বলেন, খাতের মাসাদের বিরুদ্ধে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় তিনি বাংলাদেশে তিনটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। ইউএই সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশে থাকা শেয়ারগুলো বাজেয়াপ্তের জন্য বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করা হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।
তিনি বলেন, ওই আদেশের বিরুদ্ধে খাতের মাসাদ হাইকোর্টে আপিল করেন। বিচারাধীন মামলাটি নিয়ে সহযোগিতা চাইতে ইউএই রাষ্ট্রদূত অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এসেছেন। রাষ্ট্রদূত দ্রুত মামলাটির শুনানি করে আপিলটি খারিজের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন।


