বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের

বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ ১৬টি বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের বিরুদ্ধে দুটি নতুন ব্যবসায়িক তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন ও জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের ওপর তদন্ত করবে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতিই পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রীয়ার জানিয়েছেন, ‘সেকশন ৩০১’ অনুসারে অমীমাংসিত বাণিজ্য অনুশীলন বিষয়ক (আনফেয়ার ট্রেড প্র্যাকটিস) তদন্তের আওতায় চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নতুন করে শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে ট্রাম্প প্রসাশনের।

অতিরিক্ত উৎপাদন বিষয়ক (এক্সেস ক্যাপাসিটি) তদন্তে বাংলাদেশ, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের নাম রয়েছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডার নাম এই তালিকায় নেই।

গ্রীয়ার বলেছেন, অতিরিক্ত বিষয়ক এই তদন্ত মূলত সেই দেশগুলোর দিকে মনোযোগ দেবে, যেখানে বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত উৎপাদন দেখা যাচ্ছে। যেমন: দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ঘাটতি, ব্যবহারহীন উৎপাদন ক্ষমতা বা অপ্রয়োজনীয় উৎপাদন।

উদাহরণ হিসেবে চীন ও জাপানের গাড়ি শিল্প উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন দেশীয় চাহিদা ছাড়িয়ে গেছে, তবুও শীর্ষ গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিএওডি বিদেশে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। তারা এশিয়া ও ইউরোপে নতুন কারখানা খুলছে, যেখানে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলি কেবল ৫৫ শতাংশ ক্ষমতায় কাজ করছে।

আরও পড়ুন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডে বড় বাণিজ্য ঘাটতি এবং উৎপাদন ক্ষমতা অতিরিক্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সিঙ্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন দেখা যাচ্ছে। নরওয়ে, জার্মানি ও অন্যান্য দেশে জ্বালানি ও মাছ রপ্তানির মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গ্রীয়ার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার জন্য আরেকটি তদন্ত শুরু করবেন। এই তদন্তে ৬০টির বেশি দেশ অন্তর্ভুক্ত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে চীনের সিংকজিয়াং অঞ্চলের সৌর প্যানেল ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি সীমিত করেছে। নতুন তদন্তের মাধ্যমে এই ধরনের পদক্ষেপ অন্য দেশেও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রীয়ার জানান, তিনি চাইবেন অন্য দেশগুলোও জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের পশ্চিমাঞ্চলে উইঘুর ও অন্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য বাধ্যতামূলক শ্রম কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণকে নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত শ্রম দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গ্রীয়ার জানিয়েছেন, অতিরিক্ত উৎপাদন বিষয়ক তদন্তে দেখা হবে বাজারের চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কহীন উৎপাদন, সরকারী সহায়তা, শ্রম ও পরিবেশ মানদণ্ডে ঘাটতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম, সহায়তা ঋণ এবং মুদ্রানীতি।

অতিরিক্ত উৎপাদন বিষয়ক তদন্তে জনমত গ্রহণ করা হবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং মে মাসের প্রথম দিকে একটি সাধারণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গ্রীয়ার আশা করেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এই দুই তদন্ত শেষ হবে এবং প্রস্তাবিত প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই তদন্তের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন অংশীদারদের উপর শুল্ক হুমকি পুনঃস্থাপন করতে পারবে, যাতে তারা বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য হয়। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প দেশের শিল্প ও উৎপাদনকে সুরক্ষা দিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবেন।

এই তদন্ত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চীনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্যারিসে বৈঠক করবেন। বৈঠকের মাধ্যমে মার্চের শেষে ট্রাম্পের জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরিবেশ তৈরি হবেও বলেও আশা ওয়াশিংটনের।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad