গাজার উদ্দেশে রওনা হওয়া ত্রাণবাহী নৌবহরে থাকা সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তারা ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তেল আবিবকে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং তাদের আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছি। একই সঙ্গে আমরা নৌবহরে থাকা সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের জানা মতে, তাদের নিরাপদে স্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
মুখপাত্র আরও জানান, ইসরায়েলে অবস্থিত জার্মান দূতাবাস নৌবহরে থাকা সম্ভাব্য জার্মান নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে।
এদিকে, একটি নৌযান ছাড়া নৌবহরের সবগুলো নৌযান ইতোমধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার কোনো জাহাজ ‘সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ বা আইনি নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের প্রচেষ্টায় সফল হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সকল যাত্রী নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন। তাদের নিরাপদে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে তাদের ইউরোপে পাঠানো হবে।
একটি জাহাজ এখনো রয়ে গেছে জানিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, যদি এটি একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং অবরোধ লঙ্ঘন করে তবে তাকেও প্রতিরোধ করা হবে।
এ ঘটনায় ইউরোপীয় গ্রিন পার্টি নৌবহর আটককে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
পার্টির কো-চেয়ার ভুলা সেৎসি বলেন, ‘মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়া এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের নীরব করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’ তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠান ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নৌবহরে থাকা সকলের নিরাপত্তা ও মুক্তি নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার উদ্দেশ্য সমুদ্রপথে গাজার জন্য মানবিক সাহায্য পাঠানো। গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনো থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম বহর। ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হয় নতুন নতুন নৌযান। এই নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান এবং ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষ। এদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের নাগরিকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।


