ফিলিপাইনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিবিসির লাইভ খবরে বলা হয়, ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৬০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা।
বোগোসহ অন্যান্য আক্রান্ত শহর ও পৌরসভায় ‘দুর্যোগ অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পটি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার (১৪:০০ জিএমটি) ঠিক আগে সেবু শহরের উপকূলে আঘাত হানে। এতে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা দেয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অসংখ্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (পিআইভিএস) সুনামি সতর্কতা বাতিল করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘সমুদ্রস্তরের সামান্য অস্থিরতার কারণে যে কোনো প্রভাবের শঙ্কা কেটে গেছে।’

বার্তা সংস্থা এপি খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল সেন্ট্রাল সেবুর বোগো শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূমি থেকে কেবল পাঁচ কিলোমিটার গভীরে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রেক্স ইগট জানান, প্রায় ৯০ হাজার জনসংখ্যার উপকূলীয় এই শহরেই অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভূমিকম্পের কারণে গোটা শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রেক্স ইগট বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পাহাড় ঘেরা। ভূমিকম্পের পাশাপাশি ভূমিধস ও পাথরগড়িয়ে পড়ার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে।’
সেবু গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র সকাল না হওয়া পর্যন্ত বুঝতে পারছি না। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারে। বাস্তব চিত্র এবং হতাহতের সংখ্যা আরও ভয়াবহ হতে পারে।’

সেবুর ফায়ার কর্মীরা জানান, স্থানীয়রা এখনও ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেকেই খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছেন। সান রেমিজিও শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে।
সেবু ছাড়াও মেদেলিন শহরে বাড়ির দেওয়াল ও ছাদ ধসে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তারা সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ভূমিকম্পের সময় সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
সান রেমিজিও শহরে বাস্কেটবল খেলা চলাকালীন ভূমিকম্পের আতঙ্কে পালানোর চেষ্টা করলে দেয়াল চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে তিনজন কোস্টগার্ড সদস্য, একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও এক শিশু ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এর আগে গত শুক্রবারে সেবু ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’ আঘাত হানে। ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে।


