প্রবাসী বাংলাদেশী ভোটারদের সুবিধার্থে নিবন্ধনের সময় বাড়াতে অনুরোধ করেছে বিএনপি।
মঙ্গলবার দলটির একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমএএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতে এই অনুরোধ জানায়।
গত বুধবার থেকে আট অঞ্চলে ভাগ করে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। অঞ্চলভেদে সময়ও নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যেই সময় বাড়ানোর দাবি জানাল বিএনপি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সৌদি আরবসহ যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক বেশি, সেখানে অনেকেই দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করেন। ফলে নিবন্ধন করা কঠিন। তাই আমরা অনুরোধ করেছি, এসব দেশে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হোক, যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি ভোটার হতে পারেন।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসি থেকে বলা হয়েছে-মূল নিবন্ধন শেষে যারা বাদ পড়বেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হবে। এটাকে আমরা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছি।’
প্রবাসীদের অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আমরা প্রস্তাব করেছি বাংলাদেশি পাসপোর্টকেও পরিচয়পত্র হিসেবে ধরে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে। যদিও আমরা জানি, অনেক ভুয়া পাসপোর্ট আছে, অনেকেই আছেন পাসপোর্টধারী হলে বাংলাদেশের নাগরিক নন। আমরা চাই না তারা ভোটার হন। এজন্য আমরা পাসপোর্ট যাচাইবাছাইয়ের কথা বলেছি।’
পাসপোর্টের ছবি পাঠিয়ে গ্রামের ঠিকানা থেকে ভেরিফিকেশন করে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে সেই ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে বলেও পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি।
এ প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশন সম্মত হয়েছে এবং হাতে সময় কম থাকলেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে কমিশন বিএনপির সহযোগিতা চেয়েছে বলেও জানান নজরুল ইসলাম খান।
গণভোট নিয়েও আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মতে এটি নতুন কিছু নয়। গণভোট আইন পাস হয়েছে, তাই নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হওয়ার বিষয়ে নতুন কোনো বিতর্ক নেই।’
লটারির মাধ্যমে পুলিশ সুপার নিয়োগ চূড়ান্তের বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল এটা দাবি করেছিল। বদলি যেন লটারির মাধ্যমে করা হয়। আমার বিবেচনা হলো, এখানে আপনারা সবাই সাংবাদিক, কিন্তু সাংবাদিকদের মধ্যেও কেউ কেউ ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পান যোগ্যতার ভিত্তিতে। লটারির মাধ্যমে আপনাদের পত্রিকার মালিক বা সম্পাদক আপনাদের যদি দায়িত্ব বন্টন করে তাহলে কি ভালো হবে? এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।’
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লা, নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া।


