মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জ্ঞানের মূলেই আছেন নারীরা। দেবী সরস্বতী একজন নারী। এটি একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। মা, দাদি, বোন–সবার কাছ থেকে আমরা জীবনের প্রথম শিক্ষা পাই। এমনকি আমাদের গ্রামীণ কৃষক নারীরাও জানেন কোন বীজ কখন বুনতে হয়, কখন শুকাতে হয় এবং কখন কী করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়–এটি এক ধরনের গভীর প্রজ্ঞা।’
শুক্রবার বিকালে ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘সরস্বতী পূজা-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশ কিংবা উপমহাদেশের সংস্কৃতিতে সঙ্গীত, জ্ঞান ও চেতনা জাগ্রত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এ কারণে দেবী সরস্বতীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদ্যাপীঠে আসে বই পড়তে ও জ্ঞান অর্জনের জন্য। কিন্তু দেবী সরস্বতী যে শিক্ষা দেন, তা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শাস্ত্র অনুযায়ী তার হাতে বই নয়, থাকে বীণা–যা বোঝায়, সঙ্গীত, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমেও জ্ঞান বিকশিত হয়।’
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরস্বতী শুধু একটি ধর্মীয় প্রতীক নন। তিনি পদ্মের ওপর বসে আছেন–যার শিকড় কাদায়, মাঝখানে জল আর ফুল উঠে আসে আলো ও আকাশের দিকে। অর্থাৎ পৃথিবী, জল, অগ্নি বা আলো, বায়ু ও আকাশ–এই পঞ্চভূতের সমন্বয়েই জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করে।’
তাঁর পাশে থাকা হংসের প্রতীকী তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কাদা-পানির মধ্যেও নিজেকে নির্মল রাখার শিক্ষা দেয় জ্ঞান।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণে সরস্বতী শুধু সনাতন ধর্মের পূজার বিষয় নন, তিনি আমাদের সামগ্রিক সংস্কৃতির অংশ।’
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, একটি ভীতিকর ভবিষ্যতের আশঙ্কা থাকলেও দেশের প্রাণবৈচিত্র্য, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা গেলে যেকোনো পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশ সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপউপাচার্য নেছার উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রব খান, স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস-এর ডিন অধ্যাপক দীপক কুমার মিত্রসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।


