পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র

পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানি লোডিংয়ের (পারমাণবিক ফিজিক্যাল স্টার্টআপ) চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বুধবার বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জ্বালানি লোডিং প্রস্তুতির সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ৭ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প পরিদর্শন করেছে পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, রাশিয়ার শিল্প ও কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ভিও সেফটি এবং রাশিয়ার অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি বিশেষজ্ঞ দল।

ফিজিক্যাল স্টার্টআপ বা জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে রিয়্যাক্টরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার পর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হয়। এর অধীনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় এবং সীমিত মাত্রায় রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক বিক্রিয়া সূচনা করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) মানবসম্পদ, ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, প্রকল্পের বিভিন্ন সিস্টেম ও ফ্যাসিলিটি এবং পরিচালন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি পরিদর্শন দল পর্যালোচনা করেছে।

এ ছাড়াও দলটি কমিশনিং কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিভিন্ন স্থাপনা, স্টার্টআপ ও সমন্বয় প্রটোকল এবং সংশ্লিষ্ট সনদগুলো বিচার বিশ্লেষণ করেছে। এ সময় এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এবং সমন্বয় করেছেন সংস্থার প্রধান পরিদর্শক মো. ইয়ামিন আলী প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ বিষয়টি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেছেন।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে জাহেদুল হাসান জানান, এনপিসিবিএল এরই মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন কার্যক্রম শেষ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আইএএই পরিচালিত দুই সপ্তাহব্যাপী পরীক্ষামূলক প্রি-ওসার্ট মিশন এবং তিন সপ্তাহব্যাপী প্রি-ওসার্ট মিশন।

সবশেষ, দুই সপ্তাহব্যাপী বায়েরা, ভিও সেফটি এবং রাশিয়ার রেগুলেটরি সংস্থা রস্টেকনাদজর কর্তৃক যৌথ পরিদর্শন। এছাড়া, এনপিসিবিএল এবং রসএনার্গোঅ্যাটম নিয়মিতভাবে সেলফ অ্যাসেসমেন্ট (স্ব মূল্যায়ন) কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় এনপিসিবিএলের বিভিন্ন মন্তব্য ও সুপারিশ বিবেচনা করে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বায়েরা রূপপুর প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ প্রস্তুতি যাচাই করেছে।

জাহেদুল হাসান আরও জানান, কাজ সম্পাদনের পর শিগগির একটি প্রতিবেদন বায়েরা’কে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনটি সন্তোষজনক হলে বায়েরা ফিজিক্যাল স্টার্টআপ এবং প্রথমবারের পারমাণবিক জ্বালানী লোডিংয়ের জন্য অনুমোদন ও লাইসেন্স দিবে।

বায়েরা’র চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান জানান, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ড ফোকাস রেখে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ রেডিনেস ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে স্টার্টআপ বা ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য রাশিয়ার রেগুলেটরি অথরিটি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার সুপারিশ প্রয়োজন। সুপারিশ যথাযথ হলে বায়েরা ফুয়েল লোডিংয়ের অনুমতি দিবে।

জানা যায়, রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানী লোডিংয়ের জন্য জেনারেল ডিজাইনার, রিয়্যাক্টর প্লান্ট, রাশিয়ার ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার ‘কুরচাতভ ইনস্টিটিউট’ এবং বায়েরা’র অনুমোদনের সঙ্গে ভিও সেফটির এসেসমেন্ট প্রতিবেদনও জরুরি।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি থাকবে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর