ছেলের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রবীণ ব্যক্তিকে এক নারীর সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাকারিয়া (৩৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, জাকারিয়া এ ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী। তার বিরুদ্ধে এর আগেও নওগাঁর মান্দা ও রাজশাহীর মোহনপুর থানায় অন্তত তিনটি মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মীর মো. আনোয়ার হোসেন (৬২) রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা। তার ছেলের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে পূর্বপরিচিত এক নারী তাকে ডেকে নেন। গত ৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জাকারিয়ার নির্দেশে তাকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে পৌঁছানোর পর জাকারিয়া ও তার সহযোগীরা আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক অন্য এক নারী আসামির সঙ্গে জিম্মি করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার স্বজনদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
পরে ভুক্তভোগীর স্বজনরা টাকা দেওয়ার কথা বলে ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
ঘটনার চার দিন পর রোববার ভুক্তভোগী মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেলিং চক্রের অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


