ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে একটি স্কুলভ্যানে যাত্রীবাহী ট্রেনের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে জেলার বহরমপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন ভ্যানে থাকা কয়েক শিক্ষার্থী। তাদের উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয় সকালে, শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় কর্ণসুবর্ণ রেলক্রসিং পার হচ্ছিল ভ্যানটি। এ সময় নিমতিতা-কাটোয়া যাত্রীবাহী ট্রেনটি ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ের বারটি খোলা ছিল। স্কুলভ্যানটি রেললাইন পার হওয়ার সময় দ্রুতগতিতে আসা ট্রেন সেটিকে ধাক্কা দিয়ে বেশ খানিকটা পথ টেনে নেয়।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে রেললাইনের ওপর স্কুলভ্যানটির দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঊর্ধ্বমুখী লাইনে একটি ট্রেন পার হওয়ার আগপর্যন্ত রেলক্রসিংয়ের বারটি বন্ধ ছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর সেটি খুলে দেওয়া হয়।
তবে পাশের রেললাইন দিয়ে আরেকটি ট্রেন কাচকাছি চলে এলেও প্রতিবন্ধক বারটি আর বন্ধ করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর রেলগেটের দায়িত্বে থাকা কর্মীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে রেল কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সময় ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালনকারী রেলকর্মী ও একজন তত্ত্বাবধায়ককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
রেলের একজন কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় ভ্যানটি কাটোয়া থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের কাছে রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। এ সময় একটি লোকাল ট্রেন ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
তদন্তে রেলক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীর সম্ভাব্য অবহেলার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এ মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়িত্বে থাকা রেলকর্মীর অবহেলাকে দায়ী করেন।


