খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে ‘একটি বিপ্লব ও আন্দোলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
সোমবার দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার দক্ষিণ ভাংনাহাটী (ছাপিলাপাড়া) এলাকায় খালের পাশের মাঠে শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে এবং রক্ষা করতে খাল খনন কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এ কর্মসূচির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তার ভাষ্য, জিয়াউর রহমান খাল খননকে সৌন্দর্য বর্ধনের প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ সুরক্ষার একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মানুষকে সম্পৃক্ত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত সরকার সারা দেশে খাল খনন ও পুনঃখননের দৃশ্যমান মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রথম ধাপের কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে এই কর্মসূচির অগ্রগতি সাধারণ মানুষের চোখে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সরকারের দ্রুত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি প্রাথমিক মডেল হিসেবেও এ প্রকল্প কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
খাল পুনঃখননের বহুমুখী সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ, পানিতে মাছের চাষ এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব। এতে জলাবদ্ধতা দূর হবে, জলবাহিত রোগ কমবে এবং মাছ ও ফলের বাজার স্থিতিশীল থাকবে।’ তবে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী মহল খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ বা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই সরকার এক হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ শুরু করবে বলে জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের ১৫ দিনের মধ্যেই এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পরিবেশ আন্দোলনের নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চৌক্কার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
খাল খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকেও ‘বিপ্লবের অংশ’ হিসেবে আখ্যা দেন মন্ত্রী। কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। শিল্প-কারখানা বন্ধ না করে পরিকল্পিতভাবে স্থাপন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নতুন প্রকল্প গ্রহণের কথাও জানান তিনি। চৌক্কার খালের দুই পাশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পুনঃখনন শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আলম হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব।


