জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা আর পরিবেশ রক্ষা করার স্বপ্নে নিজের জমানো টাকা খরচ করে ৩৫ হাজার গাছ লাগিয়েছেন লালমনিরহাটের এক কলেজ ছাত্র। তার ইচ্ছে, মোট ১ লাখ গাছ লাগিয়ে নিজের লক্ষ্য পূরণ করবেন তিনি।
এই তরুণ শিক্ষার্থীর নাম নাঈম রহমান, তিনি লালমনিরহাট সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। লালমনিরহাটের শহর কিংবা তিস্তা নদীর একদম দূরের চর—সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে তিনি দেশি, ফল ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেছেন।
কোনো ব্যাংক বা সংস্থার কাছ থেকে টাকা না নিয়ে, তিনি পরিবার থেকে পাওয়া নিজের খরচের টাকা জমিয়েই এই কাজ চালাচ্ছেন। তার এই সুন্দর কাজ দেখে এলাকার সাধারণ মানুষও এখন তাকে গাছ উপহার দেওয়া শুরু করেছেন।
লালমনিরহাট পৌরসভার খেদাবাগ গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও আরিফা মনি দম্পতির ছেলে নাঈম। শুধু গাছ লাগানোই নয়, তিস্তার চর আর গুচ্ছগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত ছোট ছোট শিশুদের তিনি বিনামূল্যে লেখাপড়া শেখান, স্বাস্থ্য সচেতন করেন এবং কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান দেন।
পরিবেশ ও সামাজিক কাজে নাঈমের যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে, যখন তিনি স্কুলে পড়ার সময় ‘বাংলাদেশ স্কাউটস’-এ যোগ দেন। এরপর তিস্তা ও ধরলা নদীভাঙন আর নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিজের চোখে দেখে পরিবেশ রক্ষায় নামার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি মূলত নিম, কৃষ্ণচূড়া, বট, জাম্বুরা (বাতাবি লেবু), আমলকী ও অর্জুনের মতো দেশি ও দরকারি নানা জাতের গাছ লাগাতে বেশি পছন্দ করেন।
নাঈমের মা আরিফা আক্তার মনি জানান, প্রথমে পরিবার ভেবেছিল এমন স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য হয়তো ছেলের পড়াশোনার ক্ষতি হবে, তাই তারা একটু চিন্তায় ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘যখন প্রতিবেশী আর চরাঞ্চলের মানুষের মুখে নাঈমের কাজের প্রশংসা শুনলাম, তখন বুঝলাম সে কত দারুণ কাজ করছে। এখন আমরাই ওর সবচেয়ে বড় শক্তি।’
প্রতিবেশী আবীর হোসেন সজল বলেন, নাঈম ছোটবেলা থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ভালোবাসে। খালি ও অনাবাদী জায়গায় সে নিয়মিত গাছ লাগায় আর যত্ন নেয়।
নাঈম জানান, তিনি বিশ্বকে দিন দিন উত্তপ্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে চান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন।
নাঈম বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার চারা রোপণ করেছি এবং সেগুলোর যত্ন নিচ্ছি। সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একটু সাহায্য-সহযোগিতা পেলে এই কাজ আরও অনেক বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারতাম।’
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর নাঈমের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। লালমনিরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায় বলেন, পরিবেশের বিপর্যয় থামাতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণদের এমন স্বেচ্ছাসেবী কাজ খুবই দরকার।
নাঈমের এই উদ্যোগকে দেশের অন্যান্য তরুণদের জন্য এক দারুণ অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।


