নরসিংদীতে কুকুরের গলায় রশি দিয়ে ইট বেঁধে নদীতে ফেলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন নরসিংদী সদর উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫)। একই গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের স্ত্রী শাহিনারা বেগম (৫২) ও নাগরিয়াকান্দী এলাকার হারুনূর রশিদের ছেলে রমজান আলী (২২)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, নরসিংদী জেলার নাগরিয়াকান্দি ব্রিজের ওপর থেকে একটি কুকুরের গলায় রশি লাগিয়ে এবং রশির অপর প্রান্তে ইট বেঁধে তাকে জীবন্ত অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে তা নরসিংদী জেলা পুলিশের নজরে আসে।
ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে নরসিংদী সদর থানা পুলিশ। অভিযানের প্রথম দফায় ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। শুক্রবার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে।
অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় নরসিংদী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট শাহিনারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি রমজান আলীকে শহরের নাগরিয়াকান্দী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার বলেন, ভিডিওটি পাওয়ার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।


