নড়াইল শহরের ধোপাখোলায় নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবান্ন ও পিঠাপুলি উৎসব। নৃত্য, সংগীত,আবৃত্তি, চারু ও কারু শিল্প প্রদর্শনী ও পিঠাপুলির এক বর্নিল আয়োজন ছিল সেখানে।
নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতি নবান্ন উৎসব পৌঁছে দিতে পঞ্চমবারের মতো এ আয়োজন করে নড়াইলের ‘নন্দন কানন শিশু, কিশোর বিকাশ ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র’।
শনিবার বেলা ১১ টায় শহরের ধোপাখোলায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

দৃষ্টিনন্দন নকশা আর ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের পিঠাপুলির আয়োজনে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে উঠে। উৎসবে বিভিন্ন পিঠার মধ্যে ছিল পায়েস, চিতই, রস পিঠা, পুলি, ভাপা, দুধপুলি, ধুপি, গুড়ের পায়েস, রস পাকান, ফুল পাকান, ভাজা পিঠা, নাড়ু, পাটিসাপ্টা, সেমাই পিঠাসহ ৩০ রকমের খাবার।
স্কুলশিক্ষক নীলিমা বাগচী পিঠা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই উৎসবে আমরা প্রায় ১০ জন নারী ৩০ রকমের পিঠা-পুলি বানিয়েছি। আমাদের কেউ কেউ মধ্যরাত পর্যন্ত, কেউ আবার ভোর রাত পর্যন্ত জেগে এই পিঠা বানিয়েছেন। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান পিঠাপুলিকে সবার কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে এ আয়োজন করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা বলেন, ‘বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা নবান্নকে দেখতে পাই পাঠ্যবইয়ের পাতা, ফেসবুক ও ইফটিউবে। কৃষি প্রধান বাংলাদেশে ফসল ও কৃষক থাকলেও নতুন ফসলের উৎসব কমে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে আবহমান বাংলার ঐহিত্য পৌঁছে দিতে প্রতিবছরই নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা জরুরি।’
নন্দন কাননের সভাপতি সুভাস বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মায়া রানী বিশ্বাস, দৈনিক ওশান পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, বেসরকারি সংস্থা রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বপন কুমার গুহ, শরীফ আশরাফ উজ্জামান প্রমুখ।
আলোচনা শেষে চারু ও কারু শিল্পের প্রদর্শনী এবং পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।


