ময়মনসিংহের ভালুকায় চাঞ্চল্যকর দীপু চন্দ্র দাশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তারা স্লোগান দিয়ে জনতাকে উস্কানি দিয়ে মরদেহের ওপর আরও নির্যাতন চালাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাতে ভালুকায় আলাদা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভালুকার বাটাজোর ডাকুরিয়া এলাকার সিয়াম আহম্মেদ (১৯) এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কড়ইতলা মোড় এলাকার আব্দুল্লাহ (২৮)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীপু চন্দ্র দাশ হত্যার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাটাজোর ডাকুরিয়া এলাকা থেকে সিয়ামকে এবং রাত ১০টায় জামিরদিয়া এলাকা থেকে আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে ডিবি পুলিশ জানান, ঘটনার দিন দীপু চন্দ্র দাশের মরদেহ যখন স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় মেইন রোডের পাশে গাছে ঝুলানো ছিল, তখন গ্রেপ্তারকৃত এই দুই আসামি সেখানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। তারা রশি টেনে মরদেহ নিয়ে স্লোগান দেন এবং উপস্থিত জনতাকে উত্তেজিত করে তোলেন। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দিয়ে মরদেহের ওপর নির্যাতন চালাতে তারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন বলে জানায় ডিবি পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আসামি ইতিমধ্যে আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে গত ১৮ ডিসেম্বর উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় দীপু চন্দ্র দাশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা নিহতের মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে গাছে ঝুলিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
নিহত দীপু চন্দ্র দাশ তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই কারখানার কোয়ালিটি সুপারভাইজার ছিলেন।


