মধ্যরাত পেরিয়ে অধিকাংশ মানুষ যখন ঘুমে, ঠিক তখন দিল্লির শালিমার বাগের মদিনা মসজিদের দিকে এগিয়ে যায় বুলডোজারের বহর। এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ। এরপর মসজিদটির ওপরের অংশ এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
দিল্লির নাগরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ম্যাক্স হাসপাতালের দিকে যাওয়া সড়কের কাছে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়ক প্রশস্ত করার জন্য অবৈধ দখল সরাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর আগে নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। একই সড়কের অন্য অংশেও এর আগে একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানায় তারা।
তবে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় রাতে অভিযান চালানো এবং ধর্মীয় স্থাপনাটিকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মসজিদ কমিটি।
কমিটির সভাপতি মোবিন খান জানান, আইনজীবীর পরামর্শে তারা প্রথমে সংশ্লিষ্ট নথির পরিষ্কার কপি চেয়েছিলেন, যাতে সেগুলোর ভিত্তিতে যথাযথ জবাব দিতে পারেন। এর মধ্যে নাগরিক কর্তৃপক্ষ পরপর তিনটি নোটিশ দেয়। শেষ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছিল। পরে কমিটি আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়।
মোবিনের দাবি, শুনানির সময় নাগরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎ মিটার থাকা মসজিদের একটি তলা স্বীকৃত হলেও বাকি অংশকে নতুন নির্মাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরপর কমিটি ২০০১ সালের তিনতলা ভবনের একটি নকশা জমা দেয় এবং দেয়ালের প্লাস্টারের বয়স পরীক্ষা করারও আবেদন জানায়। তবে তাদের নথি ও বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করে কমিটি।
মসজিদের ইমাম জারিফুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শুধু মসজিদটিকেই আলাদা করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, শালিমারবাগের অনেক বাড়ি জেনারেল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে নির্মিত হয়েছে। একই ধরনের ব্যবস্থার অধীনে থাকা একাধিক স্থাপনার মধ্যে শুধু মসজিদটিকেই কেন অননুমোদিত নির্মাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) দিল্লি সভাপতি শোয়েব জামাই। তার দাবি, পুরো এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছিল এবং তখনও মসজিদের ভেতরে কুরআন ও অন্যান্য ধর্মীয় সামগ্রী ছিল। তিনি ও তার সহযোগীরা ভেতরে ঢুকে কুরআনসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে আনেন বলে জানান।
রাতে এই উচ্ছেদ অভিযান সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন শোয়েব। তিনি উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনার সঙ্গে শালিমারবাগের ঘটনার তুলনা করে দিল্লিতে যেন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।
বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে এর আগে এ ধরনের বুলডোজার অভিযান ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্প বা অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্থাপনা ও আবাসিক সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। শালিমারবাগের এই ঘটনা সেই প্রশ্নগুলোকে আবার সামনে এনেছে।


