বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাতে তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতারা।
শনিবার রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে যান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা।
এসময় গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার জন্য খোলা শোক বইয়ে সই করেন তারা।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, সুব্রত চৌধুরী, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি চিত্ত রঞ্জন মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক ডি. এন চ্যাটার্জি ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল।
তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য বিজন কান্তি সরকার।
সংগঠনগুলোর নেতারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে তারা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা তারেক রহমানকে জানান।
এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের হাতে একটি শোকবার্তা তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকেও একটি শোকবার্তা হস্তান্তর করা হয়।
সাক্ষাতের পর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল সাংবাদিকদের বলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের প্রতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে একনিষ্ঠ অবস্থান ছিল সেটা তারা ব্যক্ত করেছেন।
‘তারা বলেছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সুবিচার এবং তাদের সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে সমঅধিকার, সেটাকে তিনি (খালেদা জিয়া) একেবারে খুবই উচ্চ পর্যায়ে রক্ষা করেছেন এবং তারা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে সেটির ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করেছেন।’
তারেক রহমান সংগঠনগুলোর নেতাদের কথা শুনেছেন জানিয়ে আলমগীর পাভেল বলেন, ‘তারেক রহমান একটা কথা বলেন যে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠ এই বিভাজনটির ভেতরে উনি যেতে চান না। বাংলাদেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই তিনি বিশ্বাস করতে চান এবং সবারই একটা এবং অভিন্ন পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
সবার আগে বাংলাদেশ এই কথার ওপরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে চান এবং আগামী দিনে সবার সমঅধিকার নিশ্চিতের বিষয়টিও জোর দিয়ে বলেছেন তারেক রহমান।


