জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি এবং দুজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুর রউফের জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। এর আগে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন।
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এ মামলায় আসামি পাঁচজন। তারা হলেন ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো মশিউর রহমান, রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। তার আইনজীবী সারওয়ার জাহান সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করেন।
এর আগে এ মামলায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। গত বছরের ৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। গত ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। বাসার কাছে তখন সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান তিনি। এ সময় পুলিশ গুলি শুরু করে। আমির হোসেন দৌড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় ওঠে। সেখানে আমির হোসেনকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন।
ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো আমিরের দুই পায়ে লাগে।
পরে পুলিশ চলে গেলে আমির হোসেন ঝাঁপ দিয়ে কোনো রকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে আমির হোসেনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। এ ছাড়া একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।


