জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ওই তথ্য সরবারহ করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছে থেকে আলামত হিসেবে দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) ও মো. আলামিন (৩৯)। হাবীবুল্লাহ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নিবার্চন অফিসের সহকারি ও কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্য অভিযুক্ত আলামিন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) হিসেবে কাজ করতেন।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর নিয়ন্ত্রানাধীন আলাদা আলদায় অভিযান পরিচালনা করে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সাইবার ইনভেস্টিগেশনস অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিটের ওই অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগারগাঁও নির্বাচন অফিস থেকে নিবাচন কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে মো. আলামিনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পড়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম সহযোগী মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তে জানা যায়, হাবীবুল্লাহ ২০০৮ সালে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করেন। ২০১৩ সাল থেকে নির্বাচন কমিশন অফিস, ঢাকাতে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে বদলী হন।
অন্যদিকে আলামিন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) হিসেবে মো. হাবীবুল্লাহের সঙ্গে ঢাকার নির্বাচন কমিশন অফিসে কাজ করেছেন। তিনি ২০১৬ সাল থেকে ঢাকা অফিসে ডাটা এন্ট্রি ও যেসব কাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তার জন্য নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ডও তার কাছে ছিল।
এই আইডি দিয়ে সহজেই সারা বাংলাদেশের সব জাতীয় পরিচয় পত্র সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। মো. হাবীবুল্লাহর কাছে যে আইডি ও পাসওয়ার্ড ও ছিল তার মাধ্যমে কেবল মাত্র উপজেলা নির্বাচন অফিস গজারিয়ার অন্তর্ভুক্ত নাগরিকদের তথ্য যাচাই সম্ভব ছিল।
আলামিন পূর্ব পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে মো. হাবীবুল্লাহকে ওই গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে দেন। বিনিময়ে হাবীবুল্লাহ তাকে প্রতি সপ্তাহে ৪-৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতেন। হাবীবুল্লাহ অর্থের বিনিময়ে দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য ২০০-৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতো।
ঢাকার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহে এক লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দেখা হয়েছে।
প্রতিটি জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য প্রদানের বিপরীতে ৩০০ টাকা বিনিময় মূল্য হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি হাতিয়ে নিয়েছে মো. হাবীবুল্লাহ। এই অর্থ দিয়ে তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ফ্ল্যাট, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ বিলাসবহুলভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্ততার প্রমাণ মিলেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরাও এনআইডির মূল সার্ভারে প্রবেশ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও তা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে পরিবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সিআইডি।


