ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, মাচাদো আগামী সপ্তাহেই ওয়াশিংটন যাচ্ছেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মাচাদোকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের হ্যানিটি অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। এ সময় ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পেছনে ট্রাম্পের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনো পরিকল্পনা করছেন কিনা।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার ধারণা তিনি (মাচাদো) আগামী সপ্তাহে কোনো এক সময় আসছেন, এবং আমি তার সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানাতে আগ্রহী।’
তবে এই বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
মাচাদো সপ্তাহের শুরুতে জানান, গত অক্টোবরে মাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। অর্থাৎ এটি হবে ট্রাম্পের সঙ্গে মাচাদোর প্রথম সাক্ষাৎ।

এর আগে গত সপ্তাহে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন সাংবাদিকরা। সে সময় জানতে চাওয়া হয়- মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন করতে ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করবেন কিনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে সময় জানান, মাচাদোর হাতে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। তিনি বলেন, ‘দেশের ভেতরে তার কোনো সমর্থন বা সম্মান নেই। তিনি কেবল আত্মগোপনে থাকা একজন বিরোধী দলীয় নেতা।’
তবে সপ্তাহ না পেরোতেই মাচাদোর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের খবর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে গুঞ্জন সৃষ্টি করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা শাসনে প্রভাব ফেলবে কিনা ফক্স নিউজের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র এখনই কিছু বলতে চায় না। তবে আমরা নিজ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

ভেনেজুয়েলায় শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘বর্তমানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলাকে নির্বাচনের উপযুক্ত অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লাগবে। আমাদের আগে দেশটিকে পুনর্গঠন করতে হবে। তারা এখন নির্বাচন করতে পারত না। এই মুহূর্তে তারা কীভাবে নির্বাচন করতে হয়, সেটাও জানে না।’
গত শনিবার রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রেসিডেনসিয়াল ভবনে হামলা চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। এরপর তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই একটি আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে ফোউজদারি অপরাধের বিচার চলছে।


